করোনা ভাইরাস এর আরেক নাম 2019-এনসিওভি। এটিও করোনা ভাইরাসের আরেকটি ধরন। সব ধরনের করোনা ভাইরাস ক্ষতিকারক নয় কিন্তু ২০১৯এনসিওভি বিপদজ্জনক হয়ে উঠেছে।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য অনুযায়ী এ ভাইরাসটি মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যে ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রুপ নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে।
করোনা ভাইরাসের লক্ষণঃ এ ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশের পর চার/পাঁচ দিন পর লক্ষণ দেখা দেয়। করোনা ভাইরাস সংক্রমনের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, জ্বর এবং কাশি । প্রথম লক্ষণ জ্বর এরপর শুকনো কাশি এরপর পর এক সপ্তাহের মধ্যে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
করোনা ভাইরাসের ইতিহাসঃ ১৯৬০ সালে প্রথম করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়, এটি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দেহে সংক্রমিত হয়।
সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবঃ চীনের উহান শহর থেকে এই ভাইরাস সনাক্ত হয়। এই শহরে নিউমোনিয়ার মতো একটি রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সর্তক করে এরপর ১১ জানুয়ারী প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। কোন প্রাণী থেকে এটি মানুষের শরীরে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে মানুষ থেকে মানুষের মাঝে ছড়িয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৬জন মারা গেছেন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ১৬১০ জন (২৭ জানুয়ারী ২০২০ পর্যন্ত।
চিকিৎসাঃ এই ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এর কোন প্রতিষেধক টিকা আবিস্কার হয়নি এখনো। কোন চিকিৎসাও নেই যা এটিকে ঠেকাতে পারে। তবে প্রাথমিক যেসব সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে তা হলোঃ
১) নিয়মিত হাত ভালোভাবে ধোয়া
২) হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা
৩) ফ্লু আক্রান্ত মানুষ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা
৪) ময়লা কাপড় চোপড় পরিধান না করা
৫) বাসা-বাড়ী পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, বিভিন্ন ধরনের পোকা-মাকড় থেকে দূরে থাকা।
লক্ষনের সাথে মিলে গেলে যত দ্রুত সম্ভব কাছাকাছি কোন হসপিটাল বা মেডিকেল সেন্টারে খবর দিন এবং রোগীকে দ্রুত জায়গা বদল করে অন্যত্র সরিয়ে নিন। যাতে অন্যরা সংক্রমিত না হন। একই সাথে স্বাস্থ্য সংস্থার লোকজনকে অবহিত করুন। সাবধানতাই আপাতত এই মহামারী ঠেকানোর মূল হাতিয়ার।


