ঔষধ ও কসমেটিক আইন-২০২৩ Drug and Cosmetic Law 2023
ঔষধ ও কসমেটিক আইন-২০২৩- সংসদে ড্রাগস অ্যাক্ট-১৯৪০ এবং ড্রাগস (কন্ট্রোল) অর্ডিন্যান্স-১৯৮২ রহিত করে যুগোপযোগী নতুন আইন ওষুধ ও কসমেটিকস বিল-২০২৩ পাস করা হয়েছে। দেশে ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধ, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারে জরিমানা, লাইসেন্স ব্যতীত কসমেটিকস উৎপাদন, বিতরণ, আমদানি-রফতানিতে জেল-জরিমানার বিধান রেখে গত বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর-২০২৩) সংসদে বিলটি পাস করা হয়েছে।
প্রসাধনী পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এর পরিবর্তে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের (DGDA) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ আইনে কসমেটিকস ভেজাল করলে বা কোনো ভেজাল কসমেটিকস উৎপাদন, বিক্রয়, মজুদ ও বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে ঔষধ ও কসমেটিক আইন-২০২৩ এ।
ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশ্বের প্রায় সব ড্রাগ রেগুলেটরি অথরিটি ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কসমেটিকসও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। কসমেটিকসের মান যাচাইয়ের সক্ষমতা অর্জনের জন্য ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের আওতায় বিশ্বমানের ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।
প্রণীত ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩-এর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ফার্মাসিস্টের পরিচয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া। আইনে ফার্মাসিস্টের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে ‘ফার্মাসিস্ট’ হলো বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট। নতুন আইনে ফার্মেসি কাউন্সিলের ‘বি’ ও ‘সি’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিরা যথাক্রমে ‘ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট’ ও ‘ফার্মেসি টেকনিশিয়ান’ নামে পরিচিত হবেন। ফলে গ্র্যাজুয়েট বা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট ব্যতীত আর কেউ সরাসরি ‘ফার্মাসিস্ট’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না।
ওষুধ ও কসমেটিকস আইন ২০২৩ এর আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, ফার্মাকোভিজিল্যান্স ও ভ্যাকসিনের নতুন লট রিলিজ নিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সংযুক্তি। এ অধ্যায়ে ওষুধ, ভ্যাকসিন ও মেডিকেল ডিভাইসের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, ফিল্ড ট্রায়াল, বায়োইকুইভ্যালেন্স টেস্ট করার জন্য কন্ট্রাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) পরিচালনা করার অনুমতি প্রদানের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে ওষুধ রপ্তানির জন্য অন্যতম শর্ত ‘বায়োইকুইভ্যালেন্স টেস্ট’ করার পথ সুগম হবে। পাশাপাশি দেশে ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা সহজ হবে এবং ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবকদের অধিকার ও নিরাপত্তা সংরক্ষিত হবে। এ আইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো ইউনানি চিকিৎসক, আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অথবা ফার্মেসি টেকনিশিয়ানের তত্ত্বাবধান ছাড়া ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ওষুধ বিক্রি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক অ্যালোপেথিক, ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক ওষুধ বিক্রয় বা বিতরণের জন্য ফুটপাত, পার্ক, গণপরিবহণ বা অন্য কোনো বাহনে ফেরি করে ওষুধ বিক্রয় করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনটির প্রয়োগ কিভাবে হচ্ছে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।









































